যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১১:১০ পিএম
আপডেট : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১১:১০ পিএম
আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে ভাঙনের সূত্রপাত হয়। পরদিন সোমবার সকাল ৭টার দিকে ভাঙন বড় আকার ধারণ করে। এতে প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধসে নদী-খালের দিকে চলে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বেড়িবাঁধের পাশাপাশি ওয়াপদা সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ায় ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন দেখা দেওয়ার পর সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতিরোধ কাজ শুরু করেন। বালি ও মাটি ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা।

কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘সারা বছর আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। মনের মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করে কখন ঘরবাড়ি সব প্লাবিত হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে আমরা একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারি না। সবেমাত্র এলাকায় গাছপালা ও ফসল হচ্ছে। আবার যদি প্লাবিত হয়ে যায়, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে ভেসে যাবে।’

শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সকাল থেকে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে আমরা ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি। দ্রুত বালি ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত করা না গেলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ভাঙনের পরই সাধারণত পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করে। আগে থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণে আমাদের সবসময়ই ভোগান্তি পোহাতে হয়। যে জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার সামনেই খাল। বেড়িবাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে প্রতাপনগর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নও প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। আমরা দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদক্ষেপ চাই।’

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন দ্রুত রোধ করা না গেলে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘেরসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার করতে হবে।

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য জানিয়েছি। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে।’

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আনুমানিক ৫০ মিটারের মতো বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)