আজ বিশ্ব হৃদরোগ দিবস
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
আজ বিশ্ব হৃদরোগ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘একটি হৃদস্পন্দন যেন মিস না হয়’। দেশব্যাপী দিবসটি পালিত হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
জমকালো প্রচার-প্রচারণার আড়ালে যশোরে হৃদরোগ চিকিৎসায় চলছে চরম সংকট। এখানে হৃদরোগীদের জন্য কোনো কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স নেই। যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা বলতে মূলত নাভিতে ‘ইনোক্সাপারিন সোডিয়াম’ ইনজেকশন ও প্রাথমিক সেবাটুকুই ভরসা। ফলে জটিল রোগীদের ঢাকা বা খুলনায় রেফার করতে হয় এবং লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় প্রায়ই রোগীর মৃত্যু ঘটে পথেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সিসিইউতে ১৮ হাজার ৩৬ জন রোগী সেবা নিয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় দশ হাজার রোগীকে রেফার করা হয়েছে। ২৮ শয্যার এই ইউনিটে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারিভাবে নাভির ইনজেকশন সরবরাহ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে সাড়ে ৫০০ টাকায় ওষুধ কিনতে হয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পি বলেন, ‘২৮ শয্যার বিপরীতে রোগী থাকে প্রায় দ্বিগুণ। তাই সব রোগীকে সরকারি ইনজেকশন দেওয়া সম্ভব হয় না, কেবল গরিব রোগীদের এটি দেওয়া হচ্ছে। তবে সিসিইউ-টি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩৩টি পদের অনুমোদন দিয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।’
এদিকে চিকিৎসকনেতা অধ্যাপক ডা. ফারুক এহতেশাম পরাগ ও বিএমএ নেতা ডা. রবিউল ইসলাম তুহিন জানান, দীর্ঘ দুই দশকেও যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি সেবা চালু না হওয়ায় জেলাবাসী উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। জরুরি মুহূর্তে কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রেফার্ড রোগীদের খুলনা বা ঢাকায় নেওয়ার পথেই প্রাণহানি ঘটছে।
হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাশফিকুর রহমান বলেন, ‘হৃদরোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ হলেও এটি প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এত বছরেও এই সিসিইউ পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠেনি।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ, ক্যাথ ল্যাব, অভিজ্ঞ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিয়াক সার্জন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা গেলে যশোরসহ আশপাশের ছয় জেলার হৃদরোগীদের অকাল মৃত্যু ও ভোগান্তি কমানো সম্ভব।