পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
‘একসাথে আরও শক্তিশালী, জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনার পাইকগাছায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জলাতঙ্কের ভয়াবহতা, সংক্রমণের কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী রোগ হলেও সচেতনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণী কামড়ালে ক্ষতস্থান অবহেলা না করে দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
সভায় বক্তব্য দেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. সুজন কুমার সরকার, মেডিকেল অফিসার ডা. সঞ্জয় কুমার মণ্ডল ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিলা আফরোজ।
বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাণীর টিকাদান, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের অপরিচিত বা আক্রমণাত্মক প্রাণী থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন তারা।
আলোচনায় জানানো হয়, কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর ও বাদুড়ের কামড় বা আঁচড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদিকে ইঁদুর, খরগোশ, কাঠবিড়ালি, গুইসাপ ও মানুষের কামড়ের ক্ষেত্রে সাধারণত জলাতঙ্কের টিকার প্রয়োজন হয় না বলে সভায় জানানো হয়।
বক্তারা আরও জানান, গর্ভাবস্থা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো, শিশুর কম বয়স, বার্ধক্য বা অন্য কোনো অসুস্থতার কারণে জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ বন্ধ রাখা উচিত নয়। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. ইমরান হোসেন, ডা. অর্ণব ঘোষ, ডা. প্রান্ত সরকার, ডা. আবু জাফর, ডা. তানভীর আহম্মেদ, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল, সিনিয়র নার্স খাদিজা খাতুন, ইতি রানী বিশ্বাস, শারমিন সুলতানা, ক্যাশিয়ার দেব্রত সরকার, পরিসংখ্যানবিদ জাহাঙ্গীর আলমসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সভায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জলাতঙ্কমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।