যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

অপরাধ দমনে বেআইনি পথে যাবো না: আইনমন্ত্রী

খুলনা অফিস

প্রকাশ : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৫:০০ পিএম
অপরাধ দমনে বেআইনি পথে যাবো না: আইনমন্ত্রী

Subornovumi সুবর্ণভূমি- ছবি:

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এবং খুলনা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, সুশাসনের পথে যেকোনো অন্তরায় উপড়ে ফেলতে চাই।

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। অপরাধ দমনে বেআইনি পথে নয়, আইনসংগতভাবেই এগোতে হবে। কেউ বড় অপরাধী হলেও তাকে বেআইনিভাবে হত্যা করতে দেওয়া হবে না।

সন্ত্রাস দমনে আইনসংগতভাবে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সরকার শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলায় গুরুত্ব দিয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দলীয়করণের কারণে বাংলাদেশে গত ১৭ বছরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মহাযজ্ঞ চলেছে। ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলন এবং খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছেন, তাদের অনেককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৭০০ সহযোদ্ধাকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের স্বজনেরা এখনও প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন।

আইনমন্ত্রী দাবি করেন, শুধু বিএনপি করার কারণে গত ১৭ বছরে দলটির ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া জামায়াতের ৫০ জন এবং বিএনপির ৩৭ জন নেতাকর্মীকে আন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই সময়ে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এসব ঘটনায় জড়িত অনেকেই এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারকে আবর্জনা পরিষ্কার করতে সময় দিতে হবে। সব অপরাধের বিচার করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে না পারলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। রাষ্ট্রযন্ত্রে যে পচন ধরেছিল, তা দূর করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব মত ও পথের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে। পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে মেরামত করতে সময় প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ক্রসফায়ার কোনো আইনি কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। তাই সরকার ওই পথে যাবে না। সন্ত্রাস দমনে বিদ্যমান আইনই যথেষ্ট। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনোভাবেই বেআইনি পথে হাঁটা হবে না। আইনের প্রয়োগ মানবাধিকারের ভিত্তিতে এবং সংবিধান ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি রূপসা ঘাটের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নদী পার হওয়ার পর মানুষের ব্যাগ পারাপারের জন্যও আলাদা চার্জ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসককে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্ভব হলে পরদিন থেকেই সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

রূপসা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মহাদুর্নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়কটির কাজ ৯৫ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে দেখিয়ে চতুর্থবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। অথচ প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ২০২২ সালে টেন্ডার হওয়া সড়কটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে ২৮০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী এটিকে শুধু দুর্নীতি নয়, মহাদুর্নীতি বলে মন্তব্য করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত হয়। তদন্তে রূপসা ঘাট এলাকায় সড়ক নির্মাণকে ঘিরে বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, রূপসা ঘাটে কয়েকজন ব্যক্তি লাভবান হওয়ার জন্য পুরো দলের বদনাম সরকার মেনে নেবে না। প্রশাসনকে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

জামিন নিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। সরকার বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করে না। টেলিফোন করে কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। সরকারি কৌঁসুলিরা আইনগতভাবে জামিনের বিরোধিতা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো মামলায় সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় মৃদু আপত্তি জানালে বা আপত্তি না তুললে তথ্য-প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। এ বিষয়ে তাকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।

মাদক নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্ট চালুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপা ও ঝিনাইদহে এ পদ্ধতি কার্যকরভাবে কাজ করছে। মাদকাসক্ত বা মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের ঘটনাস্থলেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সামারি ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, পরিবর্তন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। এ সময় মন্ত্রীদের জ্বালানি বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানো এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কমানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, আজিজুল বারি হেলাল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মনি, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক, মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি এফএম হারুনার রশিদ, ইসলামী আন্দোলনের শেখ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এনসপির সংগঠক আহমদ হামিম রাহাত, সাইফ নেওয়াজসহ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্য বক্তারা খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, সাইবার অপরাধ ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)