জাবির ইন্টারন্যাশনাল ট্রাজেডি
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর: জাবির ট্রাজেডির পর স্থানীয় লোকজন হোটেল থেকে মালামাল নিয়ে যায়। ফাইল ছবি
ছবি:
ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শেষদিন ৫ আগস্ট শহরের শহরের চিত্রা মোড়ে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হতাহতের অভিযোগে করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই মামলার আসামিদের শনাক্ত করা যায়নি। সেকারণে বিভিন্ন সময়ে আটক সাতজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর কাজী বাবুল হোসেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে সম্প্রতি এই প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।
মামলা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন, মো. আব্দুল খালেক (৬৫), মো. এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাড. সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এসএম আজাহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) এবং মো. ইমন কাজী (২৬)। তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।
মামলার বিবরণে বলা হয়, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের শহরের চিত্রা মোড় এমএম আলী রোডে ‘জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি অভিজাত হোটেল রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে ওই হোটেলের মধ্যে ঢোকে। দুর্বৃত্তরা হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে ৯০ লাখ টাকা চুরি করে। এরপর ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, হোটেলের স্টোরে রাখা বিভিন্ন প্রকার মালামাল, আসবাবপত্র, ক্রোকারিজ, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন, ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।
এই অভিযোগে ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলায় বলা হয়, লুটপাটের পরে গানপাউডার ও পেট্রোল দিয়ে হোটেলের প্রথম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ওই হোটেলে থাকা একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেল স্টাফ ও বোর্ডার ছিলেন।
মামলায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, হোটেলের আলমারিতে রাখা তার ভাইয়ের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র, স্টোরে রাখা বিভিন্ন মালামাল, যাবতীয় ইলেকট্রিক সামগ্রী, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও গ্লাস দরজার যাবতীয় ডেকোরেশন পুড়ে ভস্মীভূত হয়। এছাড়া মূল ইমারতের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব ছিল না।
এ মামলার দীর্ঘ তদন্তকালে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় ওই সাতজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।