‘যতটা সস্তা ভাবছ, ততটা সস্তা আমি নই’
সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সরকারি বাসা থেকে তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী কিশোরী মরিয়ম খাতুনের হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি উদ্ধার হয়েছে। এসব চিঠিতে উঠে এসেছে বৈবাহিক সম্পর্কের নানা টানাপড়েন, প্রতারণার অভিযোগ এবং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কথা।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ এসব চিঠি ও ডায়েরির পাতা উদ্ধার করে।
চিঠিতে মরিয়ম নিজেকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার বেদনার কথা লেখেন।
একটি চিঠিতে লেখা, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই...., তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...।’

আরেকটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’

সাধারণ একটি পাতায় নিজের অবস্থান ও ভালোবাসার টানাপড়েনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতিও প্রকাশ করা হয়েছে একটি পাতায়। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘সে বলেছিলো- আজ থেকে আমরা বন্ধু- চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো— আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’


জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা অন্য একটি পাতায় ক্ষোভ ও পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি হেরেছি- তুমি জিতেছ- কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি, ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।'