লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইল: লোহাগড়ার খাসচর মন্ডলভাগ এলাকায় মধুমতী নদীর ভাঙনে ঝুঁকিপূর্ণ মসজিদ সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা সুবর্ণভূমি-
ছবি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের খাসচর মন্ডলভাগ খেয়াঘাট এলাকায় মধুমতী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তীব্র স্রোতে একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গাছপালা, বসতঘর, খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা একটি মসজিদ রোববার সকালে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, মসজিদটি যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, রোববার ফজরের নামাজের পর মধুমতী নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। এর পরপরই খাসচর মন্ডলভাগ এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। অল্প সময়ের মধ্যেই মফিজার মিয়ার তালগাছ, বাঁশঝাড়সহ আশপাশের বেশ কিছু জমি নদীগর্ভে চলে যায়। তাঁর বাড়িসহ আশপাশের আরও কয়েকটি বসতঘর বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গত দুই বছর ধরে মসজিদটি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগের ওপর টিকে থাকা মসজিদটি এবার তীব্র স্রোতের কারণে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আগেই স্থানীয়রা এটি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
স্থানীয়দের দাবি, খাসচর মন্ডলভাগ ও মন্ডলভাগ এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে ফসলি জমি, গাছপালা, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য পরিবারও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তারা আরও জানান, মধুমতী নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় স্রোতের তীব্রতা বেড়েছে। কিছুদিন আগে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার দাস জানান, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে খাসচর মন্ডলভাগসহ আশপাশের এলাকায় আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।