রায়হান সিদ্দিক
, যশোর
সকাল সাতটায় ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে নাস্তা। আটটায় বইভর্তি ব্যাগ পিঠে ঝুলিয়ে চলে যেতে হয় কোচিংয়ে। ১০টায় বাড়িতে ফিরে হোমওয়ার্ক। এরপর ইউনিফর্ম পরে আবার স্কুলে দৌড়। বেলা ১২টা থেকে বিকেল সাড় ৪টা, টানা চার ঘণ্টার ক্লাসের ফাঁকে বিরতি ৩০ মিনিট। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে বিকেল ৫টা। বই আর খাতাকলমে ঠাসা ভারী ব্যাগ ঘাড় থেকে নামাতেই ক্লান্ত শরীর চায় একটু বিশ্রাম। কিন্তু সেই সুযোগটুকুও নেই দশ বছরের মেহেদি হাসানের। কারণ দুপুরের খাবার তখনো পেটে পড়েনি। কোনো রকম দুটো খেয়ে ঘরের বাইরে বের হতেই মাগরিবের আজান। এরপর আবার বইখাতা নিয়ে শুরু হয় হোমওয়ার্ক। পড়তে হয় সাত সাবজেক্টের বই। কষতে হয় অংক, শিখতে হয় ইংরেজি। স্কুলের রুটিনমাফিক পড়া শেষ করতে ঘড়ির কাঁটা নয়টায় পৌঁছায়। রাতের খাবার শেষে বিনোদনের
সামান্য খোরাক জোগায় মোবাইল অথবা টেলিভিশনের পর্দা। ঘুমাতে ঘুমাতে রাত ১১টা।
পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর নিত্যদিনের রুটিন এটি। তৃতীয় শ্রেণি থেকেই এই রুটিন মানতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। উপায়ান্তর না থাকায় অভিভাবকরাও মেনে নিয়েছেন এই অবস্থা। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান এই শিক্ষাকার্যক্রম ভবিষ্যতের জন্য কতটুকু ফলপ্রসূ? শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেইবা এর কী প্রভাব পড়ছে!
যশোর ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদি হাসানের মা রেশমা বেগমের মতে, সারাদিন ক্লাস করে মেহেদি বাড়িতে ফিরে আর কিছুই করতে চায় না। অধিকাংশ সময় ক্লান্ত থাকে। ঠিকমতো খাবার না খাওয়ায় ভুগছে পুষ্টিহীনতায়। আবার বাইরে খেলাধুলা করারও ফুরসৎ মেলে না।
মেহেদির মতো একই রকম অবস্থা বিদ্যালয়টির তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় সব শিক্ষার্থীর। অভিভাবকদের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরাও।
যশোর ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নারজিন খানম বলেন, শিশুদের প্রথম দিকে ক্লাসে মনোযোগ দেখা গেলেও টিফিন টাইমের পর সবাই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, কারণ দুপুর টাইমটা লাঞ্চ আওয়ার। কিন্তু অধিকাংশ বাচ্চার মা ১২টার সময় রান্না শেষ করে খাবার গুছিয়ে দিতে পারেন না, ফলে তারা প্রপারলি খাবার পায় না। এক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক বাচ্চা কোচিং করে স্কুলে আসে, আবার অনেকে স্কুলের পর কোচিং বা অন্য অ্যাকাডেমিতে যায় পড়তে। ৪টা ১৫ এর পর কোনো বাচ্চার শরীরে অ্যানার্জি থাকে না। পেট ভরে না খেয়ে, শরীর সাপোর্ট না দিলে পড়াশোনায় মনও বসে না।
তিনি আরও বলেন, ‘এ অবস্থায় আমরা প্রেসারাইজ করলেও প্রপার পাঠদান ফলপ্রসূ করা সম্ভব হয় না। এমনকি উপযুক্ত মাঠ ও প্র্যাকটিসের সুযোগ না থাকায় শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ফুটিয়ে তোলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করলেই তা ফলপ্রসূ হয় না। সকাল থেকে রাত সাড়ে ৮টা-৯টা পর্যন্ত শিশুদের ওপর যে টানা চাপ চলতে থাকে, তাতে তাদের শরীর ও ব্রেনের ক্যাপাসিটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একঘেয়েমি থেকে বাচ্চারা মেজাজ হারিয়ে পরিবার ও বিদ্যালয়ে রুঢ় আচরণ করছে এবং মোবাইল আসক্তির দিকে ঝুঁকছে।’
‘আমার দাবি হলো, বাচ্চাদের ব্রেনকে একটু বিশ্রামের সময় দিন। স্কুলের সময়সূচি কিছুটা কমালে এবং ওদের ব্রেনকে রেস্ট বা ঘুমের সুযোগ দিলে তারা অনেকটাই রিল্যাক্স হতে পারবে,’ বলেন শিক্ষিকা নারজিন।
বিদ্যালয়টির আরেক শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চাদের দুপুরের খাবারটা নিয়মিত হয় না। আবার স্কুল ছুটির পর ক্ষুধা মরে যায়। সারাদিন ক্লান্ত থাকার পর রাতে ঘুম পায়, পড়তেও পারে না। তো আমরা ক্লাসে দেখি ছেলেমেয়েরা অবসাদগ্রস্ত। এই কারণে শিশুদের যেমন স্বাস্থ্যগত সমস্যা হচ্ছে, তেমনই পড়ালেখারও ক্ষতি হচ্ছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে এক হাজার ২৮৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩১৮টি এক শিফটে পরিচালিত হচ্ছে এবং ৯৭১টি বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে দুই শিফটে; যেখানে প্রায় দুই লাখ ৭৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী দ্বিতীয় শিফটে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বঞ্চিত হচ্ছে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে।
তাদেরই একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন হোসেন রায়হান। স্বপ্ন ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ার। একদিন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে খেলতে চায় জাতীয় দলে। মনোবাসনা পূরণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে সে। রায়হানের স্বপ্ন ফিকে হচ্ছে শিক্ষার চাপে! শহরের আরএন রোড নতুন বাজারে পৌরসভার মাঠে নিয়মিত ফুটবল প্র্যাকটিসে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু ৩টায় শুরু হওয়া ফুটবল কোচিংয়ে আসতে তার বড় বাধা বিদ্যালয়ের ক্লাস।
রায়হান জানিয়েছে, সকাল ৯টা থেকে শুরু করে রাত ৯টা পর্যন্ত পড়ালেখা নিয়েই থাকতে হয় তাকে। ফলে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ধীরে ধীরে ফিকে হচ্ছে।
রায়হানের মতো এমন হাজারো শিশুর স্বপ্ন অঙ্কুরেই ঝরে যাচ্ছে শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার কারণে—এমনটা দাবি করছেন রিপন অটোস ফুটবল অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান আইয়াজ উদ্দীন রিপন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দশ বছরের শিশুদের নিয়ে কাজ করছি। এই বয়সে ফুটবলে তাদের নৈপুণ্য দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি, আগামীর জন্য তাদের তৈরি করতে, যাতে এই শিশুরা একদিন জাতীয় দলে খেলতে পারে। কিন্তু এখানে আমাদের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা। আমাদের অধিকাংশ শিশু প্রাইমারিতে লেখাপড়া করছে, আর বেশিরভাগের স্কুল শেষ হয় বিকেল ৪টার পর। ফলে তারা নিয়মিত প্র্যাকটিসে আসতে পারছে না। আবার স্কুল বাদ দিয়ে অভিভাবকরাও তাদের আনতে চান না। ফলে খেলাধুলা শেখার বয়সেই শিশুরা ঝরে যাচ্ছে।’
‘বর্তমান সরকারের উচিত এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা, যেখানে শিশুরা আনন্দ নিয়ে পড়াশোনা করবে, আবার পর্যাপ্ত খেলাধুলারও সুযোগ পাবে,’ বলছিলেন ক্রীড়া সংগঠক রিপন।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে সরকার ছয় থেকে দশ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক ঘোষণা করে। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। নতুন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে একই অবকাঠামো ব্যবহার করে বেশি শিক্ষার্থীকে সুযোগ দিতেই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিকে সকালে (প্রথম শিফট) এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিকে দুপুরে (দ্বিতীয় শিফট) ভাগ করে পাঠদান শুরু করা হয়। সেই থেকে এভাবেই চলছে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম।
প্রচলিত এই স্কুলভিত্তিক শিক্ষার সময়সূচি বদলের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জি এম আলমগীর কবির। স্থানীয় বাস্তব প্রেক্ষাপট, বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ভিন্নতা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের কথা বিবেচনা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি বিকেন্দ্রীকরণ ও কাস্টমাইজেশনের ওপর জোর দেন তিনি।
এই কর্মকর্তা যশোরের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের এক হাজার ২৮৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩১৮টি এক শিফটে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকের অভাবে বাকি ৯৭১টি বিদ্যালয়ই এখনও দুই শিফটে চালাতে হচ্ছে। এর ফলে দুই শিফটের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণের পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না, যেখানে এক শিফটের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো শিখনফল অর্জন করছে।’
শিক্ষাক্রম ও বিদ্যালয়ের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে এই শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, স্থান ও কালভেদে বিদ্যালয়ের সময়সূচি কাস্টমাইজ করার সুযোগ থাকা দরকার। যেমন, যশোরের নওয়াপাড়ার মতো শিল্পাঞ্চলে বহু শ্রমিক পরিবারের ভাসমান শিশু রয়েছে। সেই এলাকার সময়সূচি ও স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করে যদি পড়ালেখার সময় পুনর্নির্ধারণ করা যায়, তবে অনেক শিশু ঝরে পড়া থেকে রক্ষা পাবে। তারা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ পাবে এবং কায়িক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হবে।
এদিকে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ত্রুটিপূর্ণ স্কুল শিডিউল, অপরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস ও চার দেয়ালের মাঝে শারীরিক কর্মকাণ্ডহীন বন্দীজীবনকে অদৃশ্য ‘স্লো পয়জনিং’ বা ধীরগতির বিষক্রিয়ার সাথে তুলনা করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ। তার মতে, দিনে দিনে এই ব্যাধির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে আমাদের আগামী প্রজন্মকে।
ইউনিসেফের প্রস্তাবিত ‘ফাটভা’ (ফ্রিকোয়েন্সি, অ্যামাউন্ট, ভ্যারাইটি, টেক্সচার, অ্যাক্টিভ ফিডিং, হাইজিন) মডেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের খাবারের নির্দিষ্ট ব্যবধান বা ‘মিল স্পেসিং’ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। তাদের পাকস্থলী ও হজম ক্ষমতা বড়দের মতো নয়। শিশুদের তিনবার মূল খাবার এবং দুইবার পুষ্টিকর হালকা খাবার (স্ন্যাক্স) দেওয়া দরকার। কিন্তু বর্তমানে স্কুল শিডিউল বা শিফটিংয়ের ত্রুটির কারণে অনেক শিশু সকালে না খেয়েই স্কুলে যাচ্ছে, নতুবা স্কিপ করছে দুপুরের খাবার। ফলে শৈশবেই তারা পেট ব্যথা, গ্যাসের সমস্যা, হজমের গোলযোগ বা ক্ষুধামন্দায় ভুগছে। একই সাথে দ্রুত বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ ‘চাইল্ড ওবিসিটি’ বা শিশুকালীন স্থূলতা।
তিনি বলেন, ‘আমরা মুখে দেশি মোরগ পছন্দ করার কথা বললেও নিজের বাচ্চাকে প্রতিপালন করছি একদম ব্রয়লার মুরগির মতো। তার জন্ম হচ্ছে চার দেয়ালের ভেতরে, বড়ও হচ্ছে সেখানে। অথচ একটি শিশুর দিনে অন্তত তিন ঘণ্টা প্রাণবন্ত ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের (দৌড়াদৌড়ি ও খেলাধুলা) সুযোগ পাওয়া উচিত।’
খোলা মাঠে খেলার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, রুমের ভেতরে ট্রেডমিলে হাঁটা বা ছোট ঘরে বসে মোবাইলে গেম খেলার সঙ্গে প্রকৃতির মাঠে খেলার তুলনা চলে না। খোলা বাতাসে খেলার মাধ্যমে শারীরিক কসরতের পাশাপাশি বাচ্চার মেন্টাল রিফ্রেশমেন্ট ঘটে এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ সম্ভব হয়।
শৈশবে কাদামাটি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে দূরে রাখার চরম পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ছোটবেলায় বৃষ্টিতে ভিজে কাদামাটিতে ফুটবল খেলেছি। এটি কেবল আনন্দ নয়, বরং বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও পরম উপকারী। প্রকৃতির সান্নিধ্যে জীবাণুর সংস্পর্শে এলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘অ্যাডাপ্টিভ ইমিউনিটি’ মজবুত হয়। করোনার সময়ে ইউরোপের অনেক সুস্থ তরুণের মৃত্যু দেখা গেলেও আমাদের দেশে মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম ছিল, যার পেছনে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভূমিকা ছিল অনেক।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের মতে, আগে শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা বা আন্ডারনিউট্রিশন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে ‘ডাবল বার্ডেন’ তৈরি হয়েছে। একদিকে পুষ্টিহীনতা, অন্যদিকে স্থূলতা। ফলে অতীতে কেবল বয়স্ক বা ইউরোপীয় শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যাওয়া ফ্যাটি লিভার, কম বয়সে ডায়াবেটিস বা হরমোনাল নানা জটিলতায় এখন বাংলাদেশের ছোট ছোট শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। রাত জাগা, প্রসেসড বা জাঙ্ক ফুড খাওয়া এবং শারীরিক কসরত না করায় বিঘ্নিত হচ্ছে শিশুদের প্রয়োজনীয় ‘ডিপ স্লিপ’ বা গভীর ঘুম, যা ব্যাহত করছে স্বাভাবিক হরমোন নিঃসরণ।
এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এই শিক্ষক।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষানীতির অভাব এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন না হওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উষ্মা প্রকাশ করেছেন লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট বেনজীন খান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে কোনো স্থায়ী বা অর্থবহ শিক্ষানীতি গড়ে ওঠেনি। উল্টো ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষানীতি বদলানো হয়েছে, যার ফলে শিক্ষা খাতটি দেশের সবচেয়ে অবহেলিত খাতে পরিণত হয়েছে।
বেনজীন খান বলেন, বাংলাদেশে আল্টিমেটলি শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো নীতিই আজ পর্যন্ত দাঁড়ায়নি। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন শিক্ষানীতি হাজির করা হয়। শিক্ষাকে কখনোই কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়নি, শিক্ষা নিয়ে কারো প্রকৃত চিন্তা বা ভাবনা নেই। ‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’—এই প্রবাদটি বর্তমানে কেবল একটি ‘আপ্তবাক্য’ বা ফাঁকা বুলি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ছোটবেলা থেকেই কোমলমতি শিশুদের ওপর বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য স্কুল হওয়া উচিত শেখার, আনন্দের ও খেলাধুলার জায়গা। সেখানে তাদের শরীরচর্চা, আদব-কায়দা ও নৈতিক শৃঙ্খলা শেখানোর কথা ছিল। কিন্তু তা না করে শুরুতেই তাদের ওপর পড়াশোনা ও বইয়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।