স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে জেলা প্রশাসনের সাথে জরুরি মতবিনিময় সভা করেছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকনেতারা।
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হল রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় ব্যবসায়ী মো. আনিসুর রহমান হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দরনগরী নওয়াপাড়ায় শিল্প পুলিশ ক্যাম্প এবং সুন্দলী ইউনিয়নে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি করেন তারা।
মতবিনিময় সভায় নওয়াপাড়া সার, কয়লা, খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল গণি সরদার বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে নওয়াপাড়ায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হত্যা, ছিনতাই ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে। কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এতে আমরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি, জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন ব্যবসায়ী ভাইকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দিবালোকে তার নির্মাণাধীন মার্কেটের সামনে কুপিয়ে হত্যা করলো। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
অনতিবিলম্বে এসব ঘটনার সাথে যারা জড়িত, মূল শিকড়সহ আটক করে তাদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ব্যবসায়ীদের পক্ষে যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু জানান, ধারাবাহিকভাবে একটি চক্র এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ওই এলাকার ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং নৌবন্দর এলাকায় দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি ।
এর আগে নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীরা আনিসুর রহমান হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে যশোর-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা হরতাল পালন করেন। সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। দেশের অন্যতম প্রধান এই নদীবন্দরে পণ্য খালাস ও লোড-আনলোড কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকরা। ফলে, মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে দেখা গেছে।
গত ৬ মে সন্ধ্যায় নির্মাণাধীন মার্কেটের সামনে হত্যার শিকার হন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ট্রেডিং ও আনিস প্লাজার মালিক আনিসুর রহমান। পীরবাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে শাহ মাহামুদ ‘আনিস প্লাজায়’ একটি দোকান ঘর ভাড়া নিতে ব্যর্থ হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগ।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত যতো ঘটনা ঘটেছে, আমরা কম-বেশি কোনো দোষীকে ছাড় দিইনি। ব্যবসায়ী মো. আনিসুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মূলে যারা যারা জড়িত, সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা ইতিমধ্যে একজন আসামিকে ধরেছি। আশা করি খুব শিগগিরই অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী সুন্দলীতে পুলিশ ফাঁড়ি ও নওয়াপাড়া বাণিজ্যিক এলাকায় একটি শিল্প পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করবো। বন্দরে ব্যবসায় পরিবেশ সৃষ্টি ও জনগণের ভেতরে আতঙ্ক দূর করতে যা যা করার দরকার তা গ্রহণ করবো।’
মতবিনিময়সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অভয়নগরের ইউএনও শেখ সালাউদ্দিন দীপু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, নওয়াপাড়া সার, কয়লা, খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মসি, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক জিয়া মোল্লা, পৌর বিএনপির সভাপতি নঈম মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মোল্লা, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মুজিবুর রহমানসহ ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।