যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

নড়াইলে সড়কের ধারে শজনের বাহার

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ১ এপ্রিল,২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
নড়াইলে সড়কের ধারে শজনের বাহার

নড়াইলে সড়কের পাশে পাতাহীন শজনে গাছের দীর্ঘ সারি। সেসব গাছে ঝুলে আছে শজনে-ডাঁটা। কয়েকদিন আগে গাছে ফুল এসেছিল। ছোট সাদা গুচ্ছ গুচ্ছ সেই ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছিল প্রকৃতিতে। এরপর কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে শজনে-ডাঁটায় পরিণত হয় তা।

নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল সড়কের পাশে পতিত জায়গায় কৃষি অফিসের পরামর্শে দুই বছর আগে শজনে গাছের ডাল রোপণ করেন উপজেলার তুলারামপুর গ্রামের কৃষক শামসুর রহমান। সেখানে মোট ১৫০টি ডাল রোপণ করেন তিনি। সেসব গাছে এখন ঝুলছে জনপ্রিয় ও স্বাস্থ্যকর খাবার শজনে-ডাঁটা।

এসব শজনে নিজের পরিবার, আত্মীয়, প্রতিবেশীর চাহিদা পূরণ করে স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করছেন শামসুর রহমান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে গাছ থেকে শজনে সংগ্রহ করছেন শামসুর রহমান। এসময় কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে দুই বছর আগে সরকারি সড়কের পাশে পতিত জমিতে ১৫০টি শজনের ডাল রোপণ করেন তিনি।

প্রথম বছরই গাছে ফুল আসে তবে আশানুরূপ সবজি হয়নি। এবছর প্রত্যেক গাছে শজনে ধরেছে। এত বেশি শজনে ধরেছে যে ভারে গাছের ডাল নিচু হয়ে পড়েছে। পাতাহীন গাছে কেবল ডাঁটা। প্রথম দিকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

এখন দাম কমছে। তবে দাম কমলেও এখন ওজন বেশি বলে তিনি জানান।

শামসুর রহমান আরো জানান, তুলারামপুর গ্রামের ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে পাইকারি দামে শজনে কিনে শহরে বিক্রি করছেন। এছাড়া, গ্রামের মানুষ সেখান থেকে কম মূল্যে শজনে কিনতে পেরে অনেক খুশি। তার লাগানো গাছে শজনে দেখে অনেকেই সড়কের পাশে সবজি লাগাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

চাচড়া গ্রামের লিপু খান বলেন, ‘আমি ভ্যান চালাই। এই পথ দিয়ে যাতায়াত করি। বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে শজনে ডাঁটা পাওয়া যায়। আমি মাঝেমঝে এখান থেকে শজনে কিনে নিয়ে যাই।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর আমিও বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে কিছু শজনে গাছ লাগাবো, যাতে আর কিনে খাওয়া না লাগে।’

শামসুর রহমানের মতো অনেকেই সড়কের দুই পাশে শজনে গাছ লাগিয়েছেন। পতিত জমিতে এসব শজনে গাছ থেকে একদিকে পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে সেগুলো বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

তুলারামপুর গ্রামের টিটো রহমান বলেন, ‘আমি তিন বছর আগে সরকারি রাস্তার পাশে পাঁচটি গাছ লাগায়ছিলাম। গত বছর গাছগুলোতে ভালো শজনে হয়েছিল। এবছরও গাছ শজনে ডাঁটায় ভরে গেছে। পরিবারের চাহিদা পূরণের পর এই সবজি বাজারেও বিক্রি করছি।’

এদিকে, সড়কের পাশে কৃষকদের শজনে লাগানোর জন্য কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষি অফিসের মাধ্যম উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পতিত জমিতে প্রায় আট হাজার শজনে গাছ লাগানো হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ভোক্তাদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের সবজি শজনে। উপজেলার অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা শজনের আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে অনাবাদি জমিতে শজনের ডাল রোপণের মাধ্যমে তাদের আয় বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘গতবছর আমরা প্রায় আট হাজার গাছ লাগিয়েছিলাম। এবছরও গাছ লাগানোর প্রক্রিয়া চলমান। গত দুই বছরে যেসব শজনের ডাল রোপণ করা হয়েছে, সেগুলো এখন ফুলে ফুলে ভরে গেছে। বাজারে এর দাম থাকায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। একইভাবে তারা পারিবারের পুষ্টি চাহিদাও পূরণ করছেন।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)