স্টাফ রিপোর্টার
সুবর্ণভূমি-
ছবি:
আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে যশোরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কুরআন সবক প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’। অনুষ্ঠানে ৩৮ শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র কুরআন তুলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর আমিনিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোরের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সারাফাত হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা প্রকৌশলী খন্দকার রাশেদুজ্জামান রতন ও ড. মাহবুবুর রহমান। এছাড়া নির্বাহী সচিব গাউসুল আযম, পরিচালক মোস্তফা কামাল ও আজিজুর রহমান মশিউর, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিশুর প্রকৃত শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানী, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তারা আরও বলেন, কুরআন শিক্ষা শুধু শুদ্ধভাবে পড়তে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর শিক্ষা ও আদর্শ অনুধাবন করে তা জীবনে প্রতিফলিত করার মানসিকতা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা যেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে অভিভাবকরাও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি সন্তানদের কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত করার সুযোগ পাওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। অভিভাবিকা মোছা. নাজমা আক্তার বলেন, ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় বাসায় নিয়মিত কুরআন শেখানো সম্ভব হয় না। স্কুলে শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিশুদের মধ্যে কুরআন পড়ার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
অভিভাবক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি চরিত্র, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সন্তানদের নামাজ ও ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়তে দেখে তারা আশ্বস্ত।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন করে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। আধুনিক জ্ঞান ও কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষায় সমৃদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখার উপযোগী করে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে ৩৮ শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র কুরআন তুলে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, দ্বীনি জীবনে সফলতা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।