কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের কালিয়ায় জমিজমা নিয়ে সালিশের জের ধরে মানসুর মোল্যা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নূর ইসলাম নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মানসুর মোল্যা কদমতলা গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। আহত নূর ইসলামও একই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হাসিব মোল্যা (২২) পলাতক রয়েছেন। তিনি একই গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা হাসিব মোল্যা ও তার দাদার জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশে বসেন। সালিশে জমি ভাগাভাগি নিয়ে ইউপি সদস্যের সঙ্গে হাসিবের বাকবিতণ্ডা হয়।
এরই জের ধরে শনিবার রাতে কদমতলা ত্রিমোহনা মোড়ের একটি দোকানের সামনে সালিশের বিষয় নিয়ে মানসুর মোল্যা, নূর ইসলাম ও হাসিবের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে মানসুর ও নূর ইসলামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। এতে গুরুতর আহত মানসুর ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা নূর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে যান।
ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা বলেন, ‘হাসিব ও তার দাদার জমি ভাগাভাগি নিয়ে সালিশ হয়েছিল। সেখানে মতের অমিল হওয়ায় হাসিব তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। এ ছাড়া, হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে মাদকসেবন করতে নিষেধ করায় এবং সালিশের কারণে তিনি আমার ওপরও ক্ষিপ্ত ছিলেন। পরে সালিশের বিষয় নিয়ে মানসুর ও নূর ইসলামের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসিব তাদের ওপর হামলা চালান।’
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, ‘নিহত মানসুরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।’