স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকায় অবস্থিত শ্রীশ্রীদশমহাবিদ্যা ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দ দাসের অপমান ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিপ্রা ঘোষ (১৭) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মন্দির অধ্যক্ষের বিচারের দাবিতে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে লাশ নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহত শিপ্রা ঘোষ চাঁচড়া আর বি কে রোডের নিরোদ ঘোষের মেয়ে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে স্থানীয় ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ অনুপম দাস ওরফে অপার গোবিন্দ দাস নিহত শিপ্রার মানসিক ভারসাম্যহীন মা মিনা ঘোষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তীব্র ক্ষোভ ও লজ্জায় ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। একপর্যায়ে ঘটনার দিন বিকেলে নিজ ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ভাই পাপন ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মা মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে মন্দিরের অধ্যক্ষ অনুপম দাস প্রকাশ্যে মারধর ও অপমান করেন। এই লজ্জা ও কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমার বোন শিপ্রা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। এই আত্মহত্যার প্ররোচণার মূল দায়ী অনুপম দাস। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
আরেক নারী অভিযোগ করেন, ইসকন মন্দিরের ওই অধ্যক্ষ এর আগেও কয়েকজন নারীর সাথে অসদাচারণ করেছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে মন্দিরে ঢুকতে দেবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন।
স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অভিযুক্ত মন্দির অধ্যক্ষের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন।
তবে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে শ্রীশ্রীদশমহাবিদ্যা ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দ দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। এবং এই বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শিপ্রা ঘোষের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। তবে আত্মহত্যার জন্য কাউকে দায়ী করে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।