সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ১৮তম পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৯ শিক্ষার্থীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিভিল জজ হিসেবে সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবর নিঃসন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য গর্ব ও আনন্দের। দেশের বিচার বিভাগে মেধাবী ও যোগ্য জনবল তৈরির ক্ষেত্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনভিত্তিক শিক্ষার যে শক্ত ভিত রয়েছে, এই ফলাফল তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
এবারের বিজেএস পরীক্ষায় সারাদেশ থেকে মোট ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ জনের জায়গা করে নেওয়া সংখ্যাগত সাফল্যের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে—সঠিক অ্যাকাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা একত্রিত হলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো সাফল্য অর্জন করতে পারে।
সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চারজন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের একজন রয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ সারাদেশে ২৬তম স্থান অর্জন করেছেন। এটি যেমন তার ব্যক্তিগত মেধা, শ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি, তেমনি তার অ্যাকাডেমিক পরিমণ্ডলেরও একটি উজ্জ্বল অর্জন।
তবে এ সাফল্যকে শুধু পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কৃতিত্ব হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। একজন শিক্ষার্থীর বিচার বিভাগে প্রবেশের প্রস্তুতির পেছনে দীর্ঘ সময়ের অধ্যয়ন, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা, বিষয়ভিত্তিক ধারণা, আইন ও সংবিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং নিয়মিত অ্যাকাডেমিক অনুশীলনের সমন্বয় প্রয়োজন। আর এই ভিত্তি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা। তাদের পাঠদান, পরামর্শ, অ্যাকাডেমিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বিকাশে ভূমিকা এই অর্জনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে দেশের আইন অঙ্গনে অবদান রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একইভাবে আইন ও ভূমি প্রশাসন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। এবারের ফলাফল এসব বিভাগের শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিক প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশকে আরও দৃশ্যমান করেছে। তাই এই সাফল্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্মিলিত অর্জন হিসেবেই মূল্যায়িত হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি দায়িত্বও তৈরি করেছে। প্রতিবছর এমন সাফল্য ধরে রাখতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, গবেষণার সুযোগ, সমসাময়িক আইনবিষয়ক পাঠ, মুট কোর্ট ও অ্যাকাডেমিক অনুশীলনের বিস্তৃত সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিজেএস-সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও শক্তিশালী করা গেলে সাফল্যের পরিধি বাড়ানো সম্ভব। সামনের দিনগুলোতে নিশ্চয় তেমনটিই হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষার্থীর এই অর্জন তাই কেবল ১৯টি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, শিক্ষকতা, অধ্যবসায় ও স্বপ্নের সম্মিলিত প্রতিফলন। নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য এই সাফল্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠুক। আর সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই সম্মিলিত প্রয়াস ভবিষ্যতে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও দক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবিক পেশাজীবী তৈরির পথকে শক্তিশালী করুক—এটাই প্রত্যাশা।