যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বাড়ছে ডেঙ্গু হামের রোগী, নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা

আনোয়ার হোসেন

, মণিরামপুর (যশোর)

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:০০ এ এম
বাড়ছে ডেঙ্গু হামের রোগী, নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা

মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। একইসাথে বাড়ছে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যাও।

গত ২৩ দিনে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২২ শিশু।

বুধবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে পুরুষ ওয়ার্ডে পাঁচজন ও মহিলা ওয়ার্ডে চারজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের আরএমও অনুপ বসু জানিয়েছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই পৌরসভার বিজয়রামপুর ও গাংড়া এলাকার বাসিন্দা। পৌর এলাকার ময়লার ড্রেনগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে মশার উপদ্রব থামাতে না পারলে এই অঞ্চলে ডেঙ্গু মহামারি রূপ নেবে।

আরএমও বলেন, যারা ঢাকা ও খুলনা থেকে মণিরামপুরে ফিরছেন তাদের পরীক্ষা করলেই ডেঙ্গু ধরা পড়ছে। এই অঞ্চল থেকে আগতদের মশারির ভেতরে থাকতে হবে।

এদিকে, জ্বর নিয়ে মণিরামপুর হাসপাতালে আসা রোগীদের ডেঙ্গু নির্ণয়ের সব পরীক্ষা এখানে মিলছে না। হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকদের দেওয়া দামি টেস্টগুলো তাদের বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। দামি স্যালাইন কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।

হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৩ নম্বর বেডে ভর্তি রোগী মামুন হোসেন। রোগীর মা শাহিদা বেগম বলেন, পাঁচদিন ধরে ছেলের জ্বর। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে আসছি। প্রথমদিন আড়াই হাজার টাকা গেছে। একটা স্যালাইন ৮০০ টাকা, চারটা পরীক্ষার মধ্যে দুইটা হাসপাতালে ১০০ টাকা খরচে করাইছি। বাকি দুইটা বাইরে থেকে করিয়ে এক হাজার ৩০০ টাকা দিছি। বুধবার সকালে একটা রক্তের কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) পরীক্ষা বাইরে থেকে করাইছি; ৪০০ টাকা নেছে। সাথে ১০০ টাকার ওষুধ।

মণিরামপুর হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আনিছুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জন্য সিবিসি উইথ প্লাটিলেট পরীক্ষা জরুরি। এই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট (বিকারক) হাসপাতালে সরবরাহ থাকে না। এজন্য রোগীকে ৪০০ টাকায় এ পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়।

এই পরীক্ষা সেল কাউন্টারে করাতে হয়। যন্ত্রপাতি আছে, রিএজেন্ট নেই। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল প্রধানকে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি ৩০ হাজার টাকার রিএজেন্টের অর্ডার করেছেন। আগামী রোববার থেকে হাসপাতালে প্লাটিলেট পরীক্ষা শুরু করা যাবে- জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, যে মেডিসিন আনা হচ্ছে তা দশদিন চলবে। এরপরে আবার কেনা লাগবে। ল্যাবে প্রয়োজনীয় লোকবল, যন্ত্রপাতি ও মেডিসিন সরবরাহ থাকলে রোগীদের হাসপাতালে ভাল সেবা দেওয়া সম্ভব।

ভর্তি রোগী মামুনের বিষয়ে হাসপাতালের আরএমও অনুপ বসু বলেন, ডেঙ্গুর সাথে রোগীর দেহে টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া বা রিকেটসিয়াল রোগের জীবাণু আছে কি না তা নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক অনেক সময় ট্রিপল এন্টিজেন টেস্ট দেন। এটা আমাদের নেই। বাইরে থেকে করাতে হয়। মামুনের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

এদিকে, গত এক মাস ধরে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চাপ বেড়েছে। যারমধ্যে সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বেশি।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে গড়ে ৯০ থেকে ১০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তারমধ্যে গত সপ্তাহের বুধবারে ভর্তি রোগী ছিল ১৩৫ জন। তাছাড়া জরুরি বিভাগ থেকে প্রতিদিন ১০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। ফলে ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩১ শয্যার লোকবল নিয়ে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

আরএমও অনুপ বসু বলেন, ভর্তি রোগীর চাপে বারান্দায় সিঁড়ি পর্যন্ত রোগী ছিল। না পেরে বুধবার একসাথে ২৮ রোগীকে ছাড়পত্র দিয়েছি। হঠাৎ করে গরম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার অনুপ বসু আরও বলেন, ৫০ শয্যার ওষুধ দিয়ে হাসপাতাল সামাল দিতে হচ্ছে। রোগী ভর্তি হলে প্রয়োজনমতো একটি স্যালাইন সরবরাহ দিচ্ছি। পরেরগুলো কিনতে হচ্ছে, আমাদের স্যালাইন সংকট। এক সপ্তাহ আগে নরমাল স্যালাইন পাঁচ হাজার চাহিদা দিয়ে ৫০০ স্যালাইন পেয়েছি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)