ইবি প্রতিনিধি
‘ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স টগ রিডিজাইন ট্যুরিজম’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাঙালি ঐতিহ্য ও পর্যটনভিত্তিক বিভিন্ন সাজসজ্জার পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ফিতা ও কেক কেটে ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা, সহযোগী অধ্যাপক ড. আফরোজা বুলবুল, সহকারী অধ্যাপক মো. নাসির মিয়াসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্ণাঢ্য র্যালিতে শিক্ষার্থীরা বাঙালি সংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবন ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরেন। বর-বউ, কৃষক-কৃষানি, মা-ছেলে, জমিদার ও জমিদার-পত্নী, বাউল, চার ধর্মের পুরোহিত, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং গ্রামের নারীর সাজে অংশ নেন তারা। পাশাপাশি পর্যটন খাতের বিভিন্ন পেশা ও চরিত্রও উপস্থাপন করা হয়। এতে শেফ, এয়ার হোস্টেস, ক্লিনার, বারটেন্ডার, ওয়েটার, পর্যটক, দুবাইয়ের শেখ ও তার স্ত্রী এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সাজে শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বাউল চরিত্রে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী অহনা রহমান বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আয়োজিত র্যালিতে অংশ নিয়েছি। কুষ্টিয়া লালন শাহের মাজার ও বাউল সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। তাই পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংযোগ তুলে ধরতে বাউল সেজে র্যালিতে অংশ নিয়েছি। জীবনে প্রথমবারের মতো এমন বড় আয়োজনে অংশ নিতে পেরে শুরুতে কিছুটা নার্ভাস লাগলেও শেষ পর্যন্ত খুবই আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত হয়েছি। আশা করি, ভবিষ্যতে এ আয়োজন আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।’
বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পক্ষ থেকে চার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে র্যালি ও ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে। ফুড ফেস্টিভ্যালটি ২৭, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর চলবে।’
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘তোমাদের ডিসিপ্লিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলো। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের এমনভাবে প্রস্তুত করো, যাতে ভবিষ্যতে কর্মজীবনেও সেই শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারো। বর্তমানে সমাজে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের যে বিস্তার ঘটেছে, তোমাদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে আমরা তা কমিয়ে আনতে চাই।’
‘আমি বিশ্বাস করি, তোমাদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো,’ বলেন উপাচার্য।