সম্পাদকীয়
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে, ঘুরতে বের হন মানুষ। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রাচীন শহর যশোরে বিনোদনকেন্দ্র নেই বললেই চলে, যেখানে গিয়ে মানুষ স্বজনদের সাথে কিছুসময় নিরিবিলি পরিবেশে কাটাতে পারে। এই কারণে শহর ও শহরতলির খুবই সাধারণ মানের কয়েকটি পার্ক, রাস্তা ও নদীর পাড়গুলোতে মানুষের ঢল নামে।
মানুষের জীবনে বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্রগুলোর একটিও নেই যশোরে। এখানকার মানুষের জীবন তাই কার্যত বিনোদনহীন, একঘেয়ে।
একসময় সিনেমা হলগুলোতে মুভি দেখার মাধ্যমে মানুষ বিনোদন খুঁজে নিতো। কিন্তু দিনে দিনে মুভির মান এমন পর্যায়ে ঠেকেছে এবং একইসাথে সিনেমা হলগুলোর পরিবেশ যেভাবে নেমেছে, তাতে সেখানে যাওয়ার পরিবেশই নেই। তাছাড়া দেশজুড়ে সিনেমা হলের সংখ্যাও এখন হাতে গোনা যায়। এই হলগুলোর মধ্যে একটি এখনও যশোরে টিকে আছে, যেটি একসময় সাড়া জাগিয়েছিল। এই হল কর্তৃপক্ষ শুধু ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য ব্যবসাটি ত্যাগ করেননি। তবে পরিস্থিতি যা, তাতে যেকোনো সময় লেঅফ ঘোষণা হতে পারে এটিও।
এবারের ঈদের ছুটিতে যেসব স্থানে মানুষ ভিড় করছেন, সেগুলোকে বিনোদনকেন্দ্র বলা যায় কি না তা নিয়ে জোর বিতর্ক হতে পারে। সেগুলো আসলে প্রাচীন আমলের সুবিধাসম্বলিত পার্ক, রাস্তার ধার বা মজে যাওয়া নদীর পাড়। বিনোদনের কোনো উপকরণ কার্যত এগুলোতে নেই। তবু মানুষের ভিড় হয়। কারণ বিকল্প তো নেই।
উন্নত সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারণ করছে শহর যশোর। সমৃদ্ধ এই জনপদে একটি মানসম্পন্ন বিনোদনকেন্দ্র থাকবে না- এ যেন অকল্পনীয়। শহর ও শহরতলির বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি কার্যত শাস্তির নামান্তর।
আমরা সরকারকে এই বিষয়ে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাই। সরকারি বরাদ্দে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আর যদি সরকারি তহবিলে তা সম্ভব না হয়, তাহলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবে। প্রণোদনা, ভূমি সুবিধা বা কর ছাড়ের মাধ্যমে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলা যেতে পারে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের।
বিনোদন মানুষের মৌলিক চাহিদা। নাগরিক জীবন যন্ত্রের মতো। এই যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু নিষ্কৃতির জন্য আনন্দের জায়গা অপরিহার্য। নিরানন্দ জীবন মানুষকে দ্রুত বুড়িয়ে দিচ্ছে, করছে সমাজবিরোধী।
বিনোদনপিয়াসী যশোরের মানুষের জন্য এক বা একাধিক আধুনিক, নিরাপদ ও সবার উপযোগী বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ হোক আজকের দাবি।