সম্পাদকীয়
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক জ্বালানিবাজার যখন টালমাটাল, তখন একটি আশাব্যঞ্জক খবর আমাদের সামনে এসেছে। খবরটি হলো, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তার একাংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ।
গত ১৩ এপ্রিল দৈনিক সুবর্ণভূমিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের এক মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। আপাতদৃষ্টিতে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দেশের চাহিদার তুলনায় নগণ্য হলেও এই বিকল্প ভাবনা ও তা প্রয়োগের গভীর তাৎপর্য রয়েছে।
বাংলাদেশ এখনো প্রত্যক্ষ জ্বালানি সংকটে না পড়লেও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব এ দেশকেও ছুঁয়েছে। সরকার যেমন জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, তেমনি জনসাধারণকেও সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যবিপ্রবির এই উদ্যোগ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই উদ্যোগ আমাদের শিক্ষা দেয়, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার কেবল সম্ভবই নয়, লাভজনকও বটে।
দীর্ঘদিন ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারের যে দাবি জনসমাজে উঠে আসছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে, বিদ্যুৎবিল সাশ্রয় করতে ও পরিবেশদূষণ রোধে যবিপ্রবি তার বাস্তব প্রয়োগ দেখিয়ে দিলো। এই উদাহরণ যদি নানা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে তা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যবিপ্রবির এই পথ ধরতে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, এমনকি আবাসিক এলাকাগুলো কি প্রস্তুত? ভবনগুলোতে জোর করে সোলার প্যানেল স্থাপনের একটি প্রচেষ্টা আমরা লক্ষ্য করেছি। আমাদের বিবেচনায়, শুধু জোর করে এই কাজ হাসিল করা যাবে না। সরকারের পক্ষ থেকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপকভিত্তিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা দেওয়া দরকার। পাশাপাশি সৌর বিদ্যুতের সুদূরপ্রসারী ফলাফল সম্বন্ধে ব্যাপকভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে, এবং তার উত্তম সময় এখনই।
যবিপ্রবি প্রমাণ করেছে, স্বল্প পরিসরেও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। জ্বালানির এই সঙ্কটময় সময়ে এটি শুধু অনুকরণীয় নয়, অনুসরণীয়ও। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি বড় স্থাপনাগুলোতে যদি এ ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা যায় তাহলে বাংলাদেশ জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতার নতুন দিগন্ত স্পর্শ করবে।