মেহেরপুর প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনেও পড়ছে। তবে বৈশ্বিক সংকট কেটে গেলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং বৈশ্বিক সংকট দ্রুত কেটে গেলে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে।
বিদ্যুৎ বিতরণে অতীতে বৈষম্য ছিল স্বীকার করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশের কোথাও বিদ্যুৎ বিতরণে বৈষম্য রাখা হবে না। সবার জন্য সমান ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষিতে প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাময়িকভাবে কৃষিতে এর প্রভাব পড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়।
পুলিশ সুপার বলেন, মেহেরপুর একটি সীমান্তবর্তী জেলা। মাদক ও অনলাইন জুয়ার কারণে জেলার যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পর্যন্ত সাতটি মামলায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত দশজন এজেন্টকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া জেলার অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পগুলো সক্রিয় করতে সরকারি সহায়তা চান তিনি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, জেলায় ডিলারদের একটি অংশ সিন্ডিকেট করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। আওয়ামী লীগপন্থী ডিলারদের ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে সার বিক্রি করা হলে সংকট থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গাংনী মহিলা কলেজ এবং গাংনী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারি করা হলে শিক্ষার মান বাড়বে। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ক্লিনিক-বাণিজ্য বন্ধ করে চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া দলীয় কিছু ব্যক্তির কারণে বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তারা যোগ দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গাংনী উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় জনভোগান্তি হচ্ছে উল্লেখ করে জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, পরপর দুজন ইউএনওকে পদায়ন করা হলেও তারা যোগদান করেননি। এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
পরে দুপুর ১২টায় মেহেরপুর টাউন হলে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, মেহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস প্রমুখ।