তারেক মাহমুদ
, কালীগঞ্জ
কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্টে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। সুবর্ণভূমি-
ছবি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় তাদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। তবে এ সময় ডিলার শহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
রোববার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুদারাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। শহিদুল ইসলাম ওই ইউনিয়নের নির্ধারিত সার ডিলার। তার দাবি, কৃষকদের মধ্যে বরাদ্দের সার বিতরণ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার কাছে আর কোনো সার নেই।
কৃষকদের অভিযোগ, তাদের মধ্যে রোববার সার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে ডিলার পয়েন্টে এসে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার ও শনিবারই সার বিতরণ করা হয়েছে এবং সেদিন আর সার দেওয়া হবে না। এ নিয়ে সেখানে উপস্থিত কৃষকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
পরে আরও কয়েকজন কৃষক সেখানে এলে ডিলারের পক্ষের লোকজনের সহযোগিতায় গুদাম খুলে প্রায় ৬০ বস্তা সার দেখতে পান তারা। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেজিস্টারে সার বিক্রির তথ্য দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে দিয়েছেন।
এদিকে ডিলার শহিদুল ইসলামের চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৬৪ টন সার বরাদ্দ ছিল। তিনি প্রথম সপ্তাহে ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ৫৮ টন সারে প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা সার হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ডিলার পয়েন্টে থাকা সার বিতরণের রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বিতরণ করা সারের তালিকায় মাত্র ৫ শতাংশ ফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন কৃষককে ফোন দেওয়া হলে একজন জানান, তিনি সার পেয়েছেন। বাকি আটজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল জানান, ‘আমাদের কাছে যে সার রয়েছে, তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরও সার আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেগুলোও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া সার বিতরণের রেজিস্টার পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
চলতি আমন ধানের ভরা মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ইউরিয়া সারের পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সারের জন্যও তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে জেলার শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। এ সময় ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন তারা।
সম্প্রতি চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতি মাসের চাহিদার বিপরীতে ডিলাররা বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করছেন।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অবস্থিত বাফার গুদামের ইনচার্জ আহিদুর রহমান জানান, চলতি মাসের ৬৪ টন বরাদ্দের মধ্যে ডিলার শহিদুল ইসলাম ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। সারের মজুত ও বিতরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউরিয়া সারের মজুত, আমদানি ও বিতরণে কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম নেই।
কালীগঞ্জের এই সার গুদাম থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১২৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে সারের চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। গত বছরের একই মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন।
অভিযোগের বিষয়ে ডিলার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যে সার উত্তোলন করেছিলাম, তা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা সারের রেজিস্টার রয়েছে, চাইলে দেখতে পারেন। চাহিদার তুলনায় কম সার পাওয়া গেলে আমার কী করার আছে?’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, সংবাদ পাওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেখানে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। আরও সার সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।’