মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাতরের বিলের বিস্তীর্ণ মাঠে মুহূর্তেই নেমে এলো ধ্বংসের কালো ছায়া। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শত বিঘা জমিরর পাকা গমক্ষেত।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরের দিকে গাংনী উপজেলার গোপালনগর ও শিমুলতলা গ্রামের মাঝের এই মাঠে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে ফসল পুড়তে দেখেছেন কৃষকরা। কারও ছিল না আগুন থামানোর শক্তি। ছিল শুধু হতাশা আর কান্না। দুটি গ্রামের প্রায় অর্ধশত বর্গা চাষির প্রায় দুই কোটি টাকার গম পুড়ে যাওয়ায় এখন তাদের চোখে অনিশ্চয়তার অন্ধকার।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, ওই মাঠে উসমান নামের এক কৃষক তার পাঁচ কাঠা জমির গম কাটার পর অবশিষ্ট নাড়াতে আগুন দেন। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বাতাসের কারণে তা দ্রুত আশপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বিস্তীর্ণ এলাকার গমের ক্ষেত পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত বর্গা চাষিরা জানান, ধার-দেনা করে অন্যের জমি নিয়ে সারা মৌসুমের শ্রম ঢেলেছিলেন তারা। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
গোপালনগর গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি একজন বর্গা চাষি। আমি বর্গা করে তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। ধারদেনা করে স্বপ্ন নিয়ে চাষটি করে আজকে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমরা এখন কী খাবো?’
কৃষক শরীফুল ইসলাম ও আনারুল ইসলাম বলেন, শিমুলতলা গ্রামের উসমান নামের এক ব্যক্তি তার নিজের জমির গম কেটে নাড়া পোড়ানোর জন্য আগুন দিয়েছে। তার দেওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যায়।
এদিকে, গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের হিন্দা-পলাশীপাড়া মাঠে গমক্ষেতে অবশিষ্ট নাড়া পোড়াতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই মাঠের ৮/১০ বিঘা জমির গমক্ষেত পুড়ে গেছে।
এদিকে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া মাঠেও গমক্ষেতের আগুন ছড়িয়ে পড়ে একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনে। নেত্রকোনা থেকে আসা ওই হারভেস্টারটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মাঠগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব মাঠে পুড়ে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হচ্ছে। তবে এই সময়ে মাঠে আগুন দিয়ে নাড়া পোড়ানোর ক্ষেত্রে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।