যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বিশ্বকাপের রঙ

সুই-সুতায় ঝলমল বর্ষীয়ান মন্টু মিয়া

ইমরান হোসেন রাজ

, যশোর

প্রকাশ : রবিবার, ১৪ জুন,২০২৬, ১১:০০ এ এম
সুই-সুতায় ঝলমল বর্ষীয়ান মন্টু মিয়া

বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়েছে, চোখের জ্যোতিও আগের মতো নেই। কিন্তু সেই ঝাপসা চোখ আর কাঁপাকাঁপা হাতেই লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত জাদু। সেলাই মেশিনের চাকার ঘূর্ণি আর সুই-সুতার দ্রুতগামী ওঠা-নামা দেখে বোঝার উপায় নেই যে তার বয়স সত্তর পেরিয়েছে।

মন্টু মিয়া, বাড়ি যশোর শহরের ঘোপ এলাকায়। শহরের এক কোণে ফুটপাতে বসে গত ৮-১০ বছর ধরে সেলাইয়ের কাজ করেই চলছে তার জীবনযুদ্ধ।

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ মন্টু মিয়ার চেনা জীবনে এনে দিয়েছে এক ভিন্ন আমেজ এবং আর্থিক সচ্ছলতা। অন্য সময়ে যেখানে দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আয় করতেই হিমশিম খেতে হতো, সেখানে বিশ্বকাপের ছোঁয়ায় এখন প্রতিদিন আয় হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

ব্যস্ততার ফাঁকেই মন্টু মিয়া জানান, অন্য সময় এই ভিড় থাকে না। এই বিশ্বকাপ খেলা ধরে একটু কাজের চাপ বেড়েছে। কাস্টমাররা আসছে, পতাকা বানাচ্ছে। একেক সময় দিনে ১০টা, ২০টা, এমনকি ৩০টাও বানানো লাগে। কাজের ওপরে নির্ভর করে আয়। এখন সংসার টুকটাক ভালোই চলছে।

বাজারে এখন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দেড় গজের একেকটি পতাকা তৈরিতে ডিজাইন ভেদে মজুরি মিলছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। তবে, ব্রাজিলের পতাকার নিখুঁত মাপ ও মাঝখানের গোল রাউন্ড সেলাই করা বেশ জটিল হওয়ায় সাধারণ দর্জিরা যা এড়িয়ে যান, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তা ফুটিয়ে তুলতে ভরসার নাম এখন মন্টু মিয়া।

আর্জেন্টিনার সমর্থক পলাশ বলেন, ‘পুরো শহর ঘুরেও মনের মতো পতাকা বানানোর জন্য কাউকে পাচ্ছিলাম না। শেষে মন্টু মিয়ার খোঁজ পেয়ে এখানে এলাম। এসে দেখি প্রচুর ভিড়।’

চাড়াভিটা এলাকা থেকে আসা ব্রাজিল সমর্থক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ব্রাজিলের পতাকার ভেতরের অ্যালাইনমেন্ট ঠিক করা সব দর্জির পক্ষে সম্ভব না। কাকা এটা খুব ভালো বানান, তাই কাপড় কিনে এখানে এসেছি। ২৫০-৩০০ টাকার ভেতর বাংলাদেশের একটা ছোট আর ব্রাজিলের দুই গজের একটা পতাকা বানিয়ে নিলাম।’

২০০৬ সাল থেকে রোনালদিনহোর শৈল্পিক ফুটবল দেখে ব্রাজিলের ভক্ত হওয়া মেহেদী এবার নেইমারের প্রত্যাবর্তনে দল নিয়ে বেশ আশাবাদী।

মন্টু মিয়ার এই ব্যস্ততা আর সুদিন ফিরে আসায় খুশি আশেপাশের ব্যবসায়ীরাও। পাশের দোকানদার কবির আহমেদ বলেন, ‘সাধারণ সময়ে বয়সের কারণে মন্টু চাচার কাছে ওভাবে সেলাইয়ের কাজ আসতো না। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের কারণে এখন উনার দোকানে প্রচুর কাস্টমার। চাচার আয়-রোজগার বেড়েছে, সংসারও ভালো চলছে—এটা দেখে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে।’

হুজুগ আর উন্মাদনার ফুটবল বিশ্বকাপে যখন মেতে আছে পুরো দেশ, তখন যশোর শহরের ফুটপাতে মন্টু মিয়ার সেলাই মেশিনের চাকা ঘুরে চলেছে সচল জীবনের গল্প বুনে। ফুটবল উৎসব যেন এই সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধের সংসারে এনে দিয়েছে এক টুকরো স্বস্তি আর আনন্দের আলো।

ফুটবল বিশ্বকাপ এক মাসের এই আনন্দ-উচ্ছ্বাস শেষে হয়তো শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু মন্টু মিয়ার মতো শ্রমজীবী মানুষের মুখে যে হাসির রেখা ফুটে উঠেছে, তা যেন টিকে থাকে সারা বছর -এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)