চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে গর্বিত চুয়াডাঙ্গার মানুষ। চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় এসে কবি খড়ের আটচালা যে ঘরে থাকতেন সেই ঘরটি সেভাবেই রেখে দেওয়া হয়েছে। সামনে টাঙানো হয়েছে স্মৃতিফলক। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন, কবির স্মৃতিময় স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। কবির স্মৃতি আরো প্রাণবন্ত করতে এখানে নজরুল কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।
১৯২৫ থেকে ২৭ সালের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম একাধিকার এসেছিলেন দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায়। এখানে তিনি তৎকালীন নদীয়া জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাড়িতে উঠতেন। থাকতেন একটি আটচালা ঘরে। স্মৃতিময় সেই ঘরটি সেভাবেই রেখে দেওয়া হয়েছে। সংস্কার করে করে টিকিয়ে রাখা হয়েছে খড়ের আটচালা ঘরটি।
ঘরের পাশেই ছিল একটি পুকুর। সেখানে ছিল লিচুসহ আরো অনেক গাছ। কবি ওই পুকুরপাড়ে বসতেন। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। কবি নদের তীরেও বসতেন এবং লেখালেখি করতেন। অনেকে মনে করেন, কার্পাসডাঙ্গায় থাকাকালে কবি ‘মৃত্যুক্ষুধা, ‘পদ্মগোখরা, ‘লিচু চোর’ লিখেছিলেন। এছাড়াও অংসখ্য গান তিনি লিখেছিলেন কার্পাসডাঙ্গায় বসে।
স্বদেশী আন্দোলনের তৎপরতা বাড়াতে কবি এসেছিলেন চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায়। ১৯২৬ সালে সপরিবারে এসে তিনি দুই মাস ছিলেন- এমন তথ্যও পাওয়া যায় বিভিন্ন গ্রন্থে।
কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটিতে এসে দর্শনার্থীরা একটি আটচালা ঘর, প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়া একটি পুকুর এবং ভৈরব নদ দেখে তাদের প্রিয় কবিকে স্মরণ করেন। কবির স্মৃতি আরো অক্ষয় করতে কার্পাসডাঙ্গায় ‘নজরুল কমপ্লেক্স’ তৈরি দরকার বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
প্রতি বছর কবির জন্মদিন ও মৃত্যুদিন পালন করা হয় কার্পাসডাঙ্গায়। এ বছর তিনদিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২৩-২৫ পর্যন্ত চলবে আলোচনা সভা, কবির লেখা পাঠ, নাটক মঞ্চায়ন।
দূর-দূরান্ত থেকে যারা এখানে আসেন তাদের রাতযাপনের সুযোগ কার্পাসডাঙ্গায় নেই। এখানে সরকারি উদ্যোগে আবাসন, নজরুল কমপ্লেক্স এবং কবির স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই সংরক্ষণ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন নজরুল ভক্তরা।
কবি নজরুল গবেষক হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সী আবু সাঈদ। তিনিও কার্পাসডাঙ্গায় নজরুল কমপ্লেক্স হওয়া দরকার বলে মনে করেন।