বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
নতুন নতুন ফল চাষ, পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য উৎপাদক জুলফিকার সিদ্দিক এবার জাপানি ফল পার্সিমনে বাজিমাত করেছেন।
আলোচিত এই কৃষকের চাষ করা পার্সিমন দেখতে ও স্বাদ নিতে এখন প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন লোকজন।
যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদহ ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা জুলফিকার সিদ্দিক। বছর ৫-৬ আগে নিজের খামারে চিয়া সিড আর কিনোয়া চাষ করে প্রথম আলোচনায় আসেন। এবার তার খামারের প্রায় প্রতিটি গাছে সবুজ পাতা ভেদ করে ঝলমল করছে কমলা রঙের পার্সিমন।
তিনি জানান, পাঁচ কাঠা জমিতে ৩০টি চারা রোপণ করা হয়, বর্তমানে রয়েছে ২২টি। এরমধ্যে ১৭টি গাছে প্রচুর ফল ধরেছে।
১৯৯৫ সালে তার নার্সারি জীবন শুরু। ২০২০-২১ সালে নাটোরের মডার্ন হর্টিকালচার থেকে তিনটি পার্সিমন চারা ২২ হাজার টাকা দিয়ে কিনে আনেন জুলফিকার।
এক বছর পর থেকে ফল পাওয়া শুরু। প্রথমদিকে কম হলেও গতবছর থেকে ফল বেশি পাওয়া যায়। চলতি বছর ফল সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। গত দুই বছর ফল বিক্রি করা হয়নি। লোকজন এসেছে, ফলের স্বাদ গ্রহণ করেছে। কারো ভালো লেগেছে, কেউবা বলেছে স্বাদ ভালো না।
শুধুমাত্র চারার দামটাই বেশি, কিন্তু উৎপাদন ব্যয় খুব কম বলে জানান জুলফিকার সিদ্দিক।
পেয়ারা চাষের চেয়েও খরচ কম জানিয়ে তিনি বলেন, এই বাগানে কিছু জৈব সার ও কিছু রাসায়নিক সার এবং ফুল আসার পর স্প্রে- সব মিলিয়ে পাঁচ হাজার টাকারও কম খরচ। খুব বেশি একটা যত্ন লাগে না। তবে, ডাল কাটা যাবে না। ডাল কাটলে ফলন কমে যায়।
১৭ গাছে কমবেশি ১৭ মণ ফলের আশা করছেন এই উদ্যোক্তা। বললেন, বাইরের দেশের চেয়ে আমার ক্ষেতের পার্সিমন একটু ‘কমা’ জাতের। তবে, সাংঘর্ষিক না। কেজিপ্রতি ১২শ’ টাকা দরে বিক্রি করছি। কিন্তু দর্শনার্থীদের জন্যে বিনামূল্যে খেতে দেই। যশোরের একজন ফল বিক্রেতা কদিন আগে ১০০ কেজি পাইকারি দামে নিয়ে গেছেন। আবারও নেবেন বলে জানিয়েছেন। মূলত দেখতে আসা লোকজনই নিয়মিত ক্রেতা।
পৃথিবীতে যতো রঙিন ফল আছে, সবই এন্টি অক্সিডেন্ট বহন করে। যা রোগ প্রতিরোধক। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি, রয়েছে অনেক ধরনের ভিটামিন এবং যেহেতু এই ফল কষ স্বাদযুক্ত, সেকারণে এতে আয়রনও আছে- বলেন তিনি।
যদি দুপুরে কেউ দুইটা ফল খায়, তবে আর খাবারের চাহিদা থাকে না।
জুলফিকার সিদ্দিক বলেন, ফেব্রুয়ারিতে গাছে ফুল আসে, খাওয়ার উপযোগী হতে আগস্ট-সেপ্টেম্বর। এখন গাছে যা আছে, তা খুব শিগগিরই উঠে যাবে।
এখনও এই ফলের বাজার তেমন একটা সৃষ্টি হয়নি। ট্রায়াল বেসিসে শুরু করেছি- বলেন তিনি। যারা বাগান করতে চান, তাদের বুঝেশুনে আসা উচিত। কেননা এই ফল আগামীতে যে অনেক দামে বিক্রি করা যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তিনি প্রতি পিস চারা বিক্রি করছেন ৩ হাজার টাকা করে। নার্সারিতে অনেক চারা তৈরি করেছিলেন, বেশিরভাগই মরে গেছে। ৭০০-৮০০ বেঁচে আছে।
এদিকে, পার্সিমন দেখতে পাশের উপজেলা ঝিকরগাছা থেকে আসেন মাসুদুর রহমান নামে এক যুবক। জাপানি ফল চৌগাছায় দেখতেই মূলত তিনিসহ কয়েকজন এসে অভিভূত। বললেন, খেয়ে দেখলাম বেশ ভালোই লাগলো। তিনি বলেন, আশপাশের জেলা বা উপজেলা বাজারে এই ফল দেখিনি।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, চৌগাছা উপজেলায় ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, পেয়ারা, বরই প্রভৃতি ফলের চাষ হয়। হিজলী গ্রামে একজন পার্সিমন নামে জাপানি একটি ফল চাষ করেছেন। যদিও এই জাতটি ততো উন্নত নয়। তবে, আমাদের মাটিতে যে উন্নত জাতের পার্সিমন চাষ সম্ভব, তা প্রতীয়মান হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, নতুন ও সম্ভাবনাময় ফলের চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পদ্ধতিতে পার্সিমন চাষ করলে এটি কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি বিকল্প ফসল হতে পারে।