স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
শার্শার বাগআঁচড়ায় কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমির জাল দলিল করে দখলচেষ্টা মামলার আসামি আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম এই আদেশ দেন। একই অভিযোগে বিএনপির ওই নেতাকে সম্প্রতি দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
অভিযুক্ত আনোয়ার শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া ১৯৯৫ সালের ২২ জুন ৫২১৩ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া মৌজার ১২৮ নম্বর জেএল ভুক্ত সাবেক ২৮৬৫ ও হাল ৩৩৭৪ নম্বর দাগের ১৭ শতক জমি কেনেন। পরে নামজারি করে ‘কিবরিয়া ফিলিং স্টেশন’ স্থাপন করে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তা ভোগদখল করে আসছেন।
গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর পর ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল বিকেলে আসামি আনোয়ার হোসেন ১৯৯৯ সালের ৬ এপ্রিলের ১৯১১/৯৯ নম্বর একটি দলিল দেখিয়ে দাবি করেন, ওই জমি তার কাছে বিক্রি করেছেন গোলাম কিবরিয়া। তাই জমির মালিক তিনিই।
মরহুম গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুভা দলিলটি যাচাই করতে রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে দলিল নম্বরের সঙ্গে দাতা ও গ্রহীতার তথ্যের অমিল পান। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল বিকেলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আসামি আনোয়ার হোসেনকে জমির দলিলের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং হুমকি দিয়ে চলে যান।
এ বিষয়ে মরহুম গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুভা ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল দলিল জালিয়াতির অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।
আদালতের আদেশে ডিবি পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান মামলার তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আনোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালতের তৎকালীন বিচারক আসামি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছিলেন। নির্ধারিত দিনে আনোয়ার হোসেন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়া হয়।
২০ জুলাই পলাতক আনোয়ার হোসেন গ্রেপ্তার এড়াতে আদালতে হাজির হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আসামি আনোয়ার হোসেন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামি আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।