সম্পাদকীয়
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক হিসাবরক্ষক অফিসে বসে প্রকাশ্যে ঘুস নিচ্ছিলেন। তার সেই কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনাটি দুর্নীতিপ্রবণ সরকারি কর্মীদের চেহারা উন্মোচিত করেছে, ব্যাপারটি তেমন নয়। বরং ঘুস লেনদেনের ঘটনা দেশের সব এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে।
বাংলাদেশে সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের একটি বড় অংশ ঘুসগ্রহণে অভ্যস্ত- এ কথা দিনের আলোর মতো সত্য। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। কিন্তু যেখানে ঘুস ছাড়া একটি সাধারণ সনদ বা ফাইলও এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে পৌঁছানো কঠিন, সেখানে এই ব্যতিক্রমী সৎ কর্মীরা খুবএকটা সুবিধা করে উঠতে পারেন না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই উদ্বেগজনক। কিন্তু এগুলো যেন আমাদের গা-সওয়া হয়ে গেছে। এ যেন এক অভ্যস্ত বাস্তবতা।
ঘুস লেনদেনের কোনো একটি ঘটনার ছবি বা ভিডিও যখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, তখন দেশবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সমাজে কিছু শোরগোল ওঠে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সাময়িক বরখাস্ত বা তদন্তের মুখে পড়েন। কিন্তু এসব অসাধু ব্যক্তি দুর্নীতির দায়ে গুরুতর ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা পেয়েছেন- এমন নজির কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েকদিনের মধ্যে মানুষ ঘটনা ভুলে যায় বা এর চেয়ে বড় ঘটনা সামনে আসায় আগের বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। দুর্নীতি স্বাভাবিক গতিতেই চলতে থাকে।
গণতন্ত্রহীনতার দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী পথ পাড়ি দিয়ে আজ বাংলাদেশ একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে শাসিত হচ্ছে। নতুন সরকার মেয়াদের শুরুতেই নানা ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে জনগণেরও প্রত্যাশা বেড়েছে। কিন্তু সরকারের এসব জনহিতকর কাজকে মানুষের মন থেকে ভুলিয়ে দেবে এসব ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগ।
নতুন সরকারের প্রয়োজন এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দেওয়া। এক মোস্তাফিজুরকে ছাড় দিলে আরও মোস্তাফিজুর রহমান জন্ম নেবেন। সেকারণে সময় এসেছে, ভাইরাল হওয়া লজ্জাকে প্রতিকারে পরিণত করার। ঘুস নেওয়াকে অকল্পনীয় করে তোলার যাত্রাটা শুরু হোক।